expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>
চলছে । চলবে । অবিরাম...
মনের গহীন থেকে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মনের গহীন থেকে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বন্ধু মানে...


বন্ধু মানে নয় “I am sorry"
বন্ধু মানে “সব দোষ তোর”
বন্ধু মানে নয় “I miss you”
বন্ধু মানে “মরছিলি নাকি ? ”
বন্ধু মানে নয় “I understands”
বন্ধু মানে “সবসময় আমাকে কেন বুঝতে হয় ? ”
বন্ধু মানে নয় “I'm happy for ur success”
বন্ধু মানে “থ্রেট দিবি কবে ? ”
বন্ধু মানে নয় “Are you coming with us ? ”
বন্ধু মানে ভাব মারিস না চুপচাপ চল
বন্ধু মানে নয় ছিনিমিনি খেলা ;
বন্ধু মানে একসাথে পথ চলা
বন্ধু মানে নয় ভুলে যাবো ;
বন্ধু মানে সবসময় মনে রাখবো...

ছোট কিন্তু আবেগ জাগানো


স্কুলের টিচার অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছে। অ্যাসাইনমেন্টের বিষয়: "What you want to be in your Life?"

সবাই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিলো। টিচার অ্যাসাইনমেন্ট চেক করছে। এমন সময় দেখতে পেল যে এক স্টুডেন্ট অ্যাসাইনমেন্ট কপিতে শুধু "Happy" লিখে রেখেছে।

টিচার: "আমার মনে হয় তুমি অ্যাসাইনমেন্ট-টা কি তা বুঝতে পার নাই।"
স্টুডেন্ট: "হতে পারে ম্যা'ম। তবে আমার মনে হয় আপনি লাইফ-টা কি তা বুঝতে পারেন নাই।"
***********


***********
একটা ভদ্রলোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি হঠাৎ দেখতে পেলেন যে রাস্তার পাশে ছোট্ট ছোট্ট দুইটা ছেলে-মেয়ে কাঁদছে।

--- "খুকি, তুমি কাঁদছো কেন?"
== "আমার পুতুল ভেঙ্গে গেছে।" :((

--- "খোকা, তুমি কাঁদছো কেন?"
~~ "আমার পুতুল কাঁদছে, তাই আমি কাঁদছি।" :((

***********

**********
...... শেষ পর্যন্ত তাদের মাঝে ঝগড়া লাগলো। এরকম সিচুয়েশনে ঝগড়া লাগাটাই স্বাভাবিক।

ছেলে: "দেখ, তোমাকে শেষবারের মতো বলছি ওর[আগের প্রেমিক] আর আমার মধ্যে যেকোন একজনকে তোমাকে বেছে নিতে হবে। আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি, বাট আমি তোমার অপশন হিসেবে থাকতে পারবো না।"

মেয়ে: "নাহ, আমি ওকে ছাড়তে পারবো না। তুমি তো জানই যে ওর হার্টের প্রবলেমটা খুব বেশি সিরিয়াস। ও আর বেশি দিন বাঁচবে না। ওর জীবনের শেষ সময়টা অন্তত ওর পাশে কাটাতে চাই।"

ছেলে: "ওকে। ভালো থেক। গুড বাই ফরইভার।"


১০ দিন পর ....

মেয়ের আগের প্রেমিকের হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে। এখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ। মেয়েটা একসময় হার্ট ডোনারের পরিচয় জানতে ডক্টরের কাছে গেল। ডক্টর তখন মেয়েটাকে হার্ট ডোনারের দেওয়া একটা নোট দিলো। নোটটাতে লেখা ছিলো ---

"My heart is only for you ... So I gave my heart to him ... Hope you'll love me too ..."
***********


***********
একদিন সেই ছেলেটা মেয়েটাকে চ্যালেন্জ করে বসলো। খুব সহজ একটা চ্যালেন্জ, "তুমি যদি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো তাহলে তুমি আমার সাথে একটা সম্পূর্ণ দিন কোনরকম যোগাযোগ করবে না। যদি তুমি টানা ২৪ ঘন্টা যোগাযোগ না করে থাকতে পারো তাহলে আমি তোমাকে আজীবন ভালোবাসবো।"

মেয়েটা রাজি হলো। সে সারা দিন একবারও যোগাযোগ করলো না ছেলেটার সাথে। কোন ফোন-কল বা কোন এস.এম.এস. - কিছুই করলো না।

পরদিন মেয়েটা দৌড়ে গেল ছেলেটার বাসায়। মেয়েটা জানতো না যে ছেলেটার ক্যান্সার ছিলো আর তার আয়ু ছিলো মাত্র ২৪ ঘন্টা। মেয়েটার চোখ দিয়ে অঝোর-ধারায় পানি পড়লো যখন সে দেখতে পেলো, ছেলেটা কফিনের শুয়ে আছে আর তার পাশে একটা চিঠি। সেখানে লেখা আছে,
"You did it baby. Can you do it everyday? I love you."


***********

***********
এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক তার ২৫ বছর বয়সের ছেলে সহ ট্রেনে করে বাসায় ফিরছেন। ছেলেটা ট্রেনের জানালা দিয়ে আশেপাশের প্রকৃতি দেখছে।

ছেলে: (ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে) "বাবা! কি মজা! দেখো, ট্রেনের বাইরের গাছগুলো সব পিছনের দিকে যাচ্ছে!"
বাবা: (হাসিমুখে) "Yah ... Cheers my son ..."

ছেলে: (কিছুক্ষণ পর) "বাবা! দেখো, কি সুন্দর পুকুর। পুকুরের উপর ঐ ছোট্ট ছোট্ট পাখিগুলো কোন পাখি, বাবা?"
বাবা: (হাসিমুখে) "ওগুলো মাছরাঙ্গা পাখি।"

ট্রেনে তাদের পাশে এক ভদ্রলোক বসা ছিলো। সে চিন্তা করে পাচ্ছে না যে কিভাবে এই ২৫ বছর বয়স্ক ছেলেটা বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে, অল্প কিছু দেখেই আনন্দিত হচ্ছে। কিছুক্ষন পর বৃষ্টি পড়া শুরু করলো এবং বৃষ্টির কিছু ফোটা এসে ছেলেটার হাতের উপর পড়লো।

ছেলে: (খুব খুশি হয়ে) "বাবা! দেখো দেখো ... বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ফোটা আমার হাতের উপর পড়ছে। "

এমন সময় ভদ্রলোক তার কোতুহুল দমন করতে পারলো না। সে তার ছেলেটার বাবাকে বললো, "আপনার ছেলে বয়স হিসেবে যথেষ্ট ইমম্যাচিউর। তাকে কেন একজন ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান না। হসপিটালে ডাক্তারদের সাজেশন মতো চললে সে সুস্থ হয়ে যাবে।"

ছেলেটার বাবা উত্তর দিলো, "আমরা হসপিটাল থেকেই বাসা ফিরছি। সে এখন কমপ্লিট সুস্থ। তার চোখের অপারেশন হওয়ার পর আজ সে জীবনে প্রথমবারের মতো দেখতে পারছে।"

[We find it so easy to jump to conclusions and pass judgments… a humble reminder not to draw conclusions until you get all the facts.]

বাস্তব সত্য

⊪ একটা বড় হোটেল এ ২০ টাকা বখশিশ দিন, আপনাকে ওয়েটার ছোটলোক ভাববে, আপনিও বড় সাজতে বড় অঙ্কের বখশিশ ই দেন সচারচর!


▬ একজন ক্ষুধার্তকে ২০ টাকা দিন, দেখুন আপনাকে কত বড় মাপের মানুষ ভাবে, বড় সাজার অভিনয় আর করতে হবেনা!!!

●● Fact 2 - বড় অদ্ভুত,

⊪ ৩ টা মিনিট চোখটা আল্লাহর ইবাদত এ মশগুল হলে মনে হয় কত সময় বুঝি অপচয় হল!



▬ কিন্তু ৩ টা ঘণ্টা মনের আনন্দে একটা মুভি যেন নিমেষেই শেষ হয়ে গেল!!!

●●● Fact 3 - বড় অদ্ভুত,

⊪ সারাদিন পর বাসায় এসে জিম এ জেতে আমাদের কোন ক্লান্তি এ লাগেনা!



▬ কিন্তু আমাদের ক্লান্তির সীমা ছাড়িয়ে যায় বাবা-মা কোন কাজে সাহায্য চাইলে!!!

●●●● Fact 4 - বড় অদ্ভুত,



⊪ আমরা একটা valentines day, বিশেষ জন এর Birthdayর জন্য সারা বছর অপেক্ষা করি!


▬ কিন্তু একটা নিয়মতান্ত্রিক লাইন এ দাড়াতে আমাদের তর সয়না!!!

●●●●● Fact 5 - বড় অদ্ভুত,

⊪ আমরা ফালতু সব গল্প, অযথা জোক্স ঠিকই লাইক করবো, কমেন্ট করবো, নিজেদের ওয়াল এ শেয়ার করব!



▬ কিন্তু এই ♥ মিষ্টি ♥ লেখাটা করব না!!!

বাস্তব কথা

আমরা এমন এক দেশে জন্মেছি যেখানে-




১.মানুষ এর জীবন এর বিনিময় মূল্য ছাগল!!!

২.পিত্‍জা ডেলিভারি এম্বুলেন্স, পুলিশের আগে আসে

৩.ল্যাবরেটরি এর বিষাক্ত ফরমালিন আমরা খাই মাছের সাথে!!

৪.পাঁচ বছর পর পর জলন্ত আগুন থেকে ফুটন্ত কড়াই এ গিয়ে পড়ির

৫.চালের কেজি ৫০ টাকা,কিন্তু সিম কার্ড প্রায় ফ্রী

৬.জুতা বিক্রি হয় এসি শো-রুমে আর খাবার জিনিস বিক্রি হয় 


ফুটপাতে


৭.ভূয়া ডিগ্রীধারীরাই সমাজের মাথা(শিল্পপতি),আর সত্যিকারের 


মেধাবীরাই কর্মহীন।

"বন্ধুত্ব"

:৬ বন্ধু দুই বাইক ..পেট্রোল নাই..পয়সাও নাই!!


:পরীক্ষার আগের রাত ৬ বোকা একসাথে... নোট 



নাই!!


:সমুদ্রের কিনারে বসে ৬ জন সবাই স্মোকার!! 



সিগারেট একটা!



এক মেয়ে ৬ বন্ধু একজন অন্যকে " ওই তোর ভাবি 



চোখ তুলে তাকাবিনা!!"



.

জীবন মানে সব কিছুই বোকামি কিন্তু তারমাঝেও 



কিছু একটা অসাধারন সেটাই "বন্ধুত্ব"

বজ্রমূর্খের তর্ক


আজকে শুক্কুরবার । মাইনে পেইচি । বোধায় শরতকালের পুন্নিমে ।
পাতলা মেঘের মধ্যে জোসনা খেলচে । মাঝরাত। রাস্তাঘাট ফাঁকা।
সামান্য টেনিচি তাড়ি। গাইচি গুনগুন করে অতুলপ্রসাদ ।
কোথাও কিচ্ছু নেই হঠাৎ কুচকুচে কালো নেড়িকুকুরের দল
ঘেউ-ঘেউ করে ওঠে । তাড়া করে । বেঘোরে দৌড়ুতে থাকি ।
বুঝতে পারিনি আগে । রাজপথে এসে হুঁশ হয় ।
মাইনেটা পড়েচে কোতাও হাত থেকে । কী করে ফিরব বাড়ি  ?
কেউ তো বিশ্বাস করবে না ! ভাববে খেলেচে রেস
গিয়েচে মাগির বাসা , বন্ধুদের সাথে নিয়ে বেলেল্লা করেচে ।
বন্ধুবান্ধব কেউ নেই । রেসও খেলি না কতো কাল।
ওন্য স্ত্রীলোকের খোলা বুকে হাত শেষ কবে দিয়েচি যে
ভুলে গেচি । জানি না বিশ্বাস করে না কেউ কেন  !
আমার তো মনে হতে থাকে , যা করিনি সেটাই করিচি বুঝি।
যা কইনি, সে কতা বলিচি । তাহলে এ পুন্নিমের মানে ?
কেন এই মাইনে পাওয়া ? কেন গান ? কেন তাড়ি ?

আবার ঢুকতে হবে রামনোংরা গলির ভেতরে ।নির্ঘাত কুকুরগুলো
গন্ধ শুঁকে টের পাবে । ছেঁকে ধরবে চারিদিক থেকে ।
যা হবার হয়ে যাক । আজ শালা এস্পার কিংবা ওস্পার ।






(মলয় রায়চৌধুরী)

একজন তথা কথিত ''' বড় ভাই''' এর কথা

ওনি সত্যি আমার বড় ভাই। তাঁর কথাতা আমার মনে দাগ কেটেছে। আপনার মনে কাটবেকিনা জানিনা...


মা শুধুই মা ।। বোন শুধুই বোন। ওরা আমাদের জন্য কি না করে? 


আমরা পুরুষরাই বোকা , নিষ্ঠূর এবং রূঢ় । ওদের জন্য না করে 


আমরা বউ/ গার্ল ফ্রেন্ড জন্য পাগল হয়ে যাই । অনেকে পালিয়ে বিয়ে 


করি,  বাসায় না জানিয়ে।


উদাহরণ হিসেবে একটা খুব বলতে ইচ্ছা করে , 


ধরুন আপনার বয়স ২০ বছর। আপনার পথ চলা মানে প্রেম ৫ 


বছরের। আপনি কি ৫ বছরের জন্য ২০ বছরের ভালবাসা কে ত্যাগ 


করবেন ?

কিছু সত্য বাক্য...


* গাধা একশো বছর বাঁচলেও সিংহ হয় না।
* মানুষ সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু আসলে গাধাকেই পছন্দ করে।
* সুন্দর মনের থেকে সুন্দর শরীর অনেক আকর্ষণীয়। কিন্তু ভণ্ডরা বলেন উল্টো কথা।
* অধিকাংশ সুদর্শন পুরুষই আসলে সুদর্শন গর্দভ।
* অধিকাংশ রূপসীর হাসির শোভা মাংসপেশির কৃতিত্ব, হৃদয়ের কৃতিত্ব নয়।
* কোনো দেশের লাঙলের রূপ দেখেই বোঝা যায় ওই দেশের মেয়েরা কেমন নাচে, কবিরা কেমন কবিতা লেখেন, বিজ্ঞানীরা কী আবিষ্কার করেন, আর রাজনীতিকেরা কতোটা চুরি করে।
* মানুষ যখন তার শ্রেষ্ঠ স্বপ্নটি দেখে তখনি সে বাস করে তার শ্রেষ্ঠ সময়ে।
* কবিতা এখন দু-রকম: দালালি ও গালাগালি।
* মসজিদ ও মন্দির ভাঙার সময় একটি সত্য দীপ্ত হয়ে ওঠে যে আল্লা ও ভগবান কতো নিষ্ক্রিয়, কতো অনুপস্থিত!
* ধার্মিক কখনোই সম্পূর্ণ মানুষ নয়, অনেক সময় মানুষই নয়।
* পুঁজিবাদের ঈশ্বরের নাম টাকা; আর মন্দিরের নাম ব্যাংক।
* পশু আর পাখিরাই মানবিক।বদমাশ হওয়ার থেকে পাগল হওয়া অনেক মানবিক.
* * সৎ মানুষ মাত্রই নিঃসঙ্গ, আর সকলের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু।
* পুঁজিবাদী পর্বের সবচেয়ে বড়ো ও জনপ্রিয় কুসংস্কারের নাম প্রেম।
* * যে বুদ্ধিজীবী নিজের সময় ও সমাজ নিয়ে সন্তুষ্ট, সে গৃহপালিত পশু।
* * শাড়ি প’রে শুধু শুয়ে থাকা যায়; এজন্যে বাঙালি নারীদের হাঁটা হচ্ছে চলমান শোয়া।
* বাঙালি একশো ভাগ সৎ হবে, এমন আশা করা অন্যায়। পঞ্চাশ ভাগ সৎ হ’লেই বাঙালিকে পুরস্কার দেয়া উচিত।
* মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপজ্জনক।
* বাঙালি যখন সত্য কথা বলে তখন বুঝতে হবে পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে।
* * বাঙালি অভদ্র, তার পরিচয় রয়েছে বাঙালির ভাষায়। কেউ এলে বাঙালি জিজ্ঞেস করে, ‘কী চাই?’ বাঙালির কাছে আগন্তুকমাত্রই ভিক্ষুক। অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে বাঙালি বলে, ‘দাঁড়ান।’ বসতে বলার সৌজন্যটুকুও বাঙালির নেই।
* * এখানে অসতেরা জনপ্রিয়, সৎ মানুষেরা আক্রান্ত।
* যতোদিন মানুষ অসৎ থাকে, ততোদিন তার কোনো শত্রু থাকে না; কিন্তু যেই সে সৎ হয়ে ওঠে, তার শত্রুর কোনো অভাব থাকে না।
* আমাদের অঞ্চলে সৌন্দর্য অশ্লীল; অসৌন্দর্য শ্লীল। রূপসীর সামান্য নগ্ন বাহু দেখে ওরা হৈ চৈ করে, কিন্তু পথে পথে ভিখিরিনির উলঙ্গ দেহ দেখে একটুও বিচলিত হয় না।
* মহামতি সলোমনের নাকি তিনশো পত্নী আর সাত হাজার উপপত্নী ছিলো। আমার মাত্র একটি পত্নী। তবু সলোমনের চরিত্র সম্পর্কে কারো কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু আমার চরিত্র নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
* আগে কাননবালারা আসতো পতিতালয় থেকে, এখন আসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
* বীরপুরুষ মরে একবার কাপুরুষ মরে বারবার ।
* পাবার আশা করোনা কিছুই পাবে না, হারিয়ে ফেলো খুজে পাবার সম্ভাবনা থাকবে ।

এগার বছরের বাচ্চার সুইসাইড নোট


"মা, আমি চলে যাচ্ছি! তুমি একটুও মন খারাপ করো না, সবার কি এত নিষ্ঠুর পৃথিবীতে থাকা চলে? বল মা? তুমি কি মা মনে কর তোমার এগার বছরের এই ছোট্ট খুকিটা কিছু বুঝে না! শিশু বলেই কি আমাদেরকে বড়দের সব কথা শুনতে হবে?? কেউ কি কোন ব্যাপারে আমাদেরকে ভালভাবে বুঝিয়ে দিতে পারে না মা? ছোট বলেই আর মেয়ে বলেই কি আমরা তাদের কেনা গোলাম হয়ে গেছি মা?? যা ইচ্ছা তাই করবে? রাস্তার কুকুরগুলো তোমার মেয়েকে অশালীন নোংড়া কথা বলবে? তোমার খুকির ছোট্ট মনে কি মা এত কষ্ট মানায় বল??"

"মা, আমি চলে যাচ্ছি! জান মা, পৃথিবীতে যাওয়ার আগে শুনেছিলাম পৃথিবী অনেক সুন্দর! আসলেই কি সুন্দর মা?? তাহলে কেন মা আমার চলে যেতে হয় পরীর দেশে? পৃথিবীর কুৎসিত রূপ দেখব যদি জানতে পারতাম মা, তাহলে আমি তোমার গর্ভেই পরীর দেশে আসার পথ খুঁজে নিতাম! আমাদের মত খুকিদের বাঁচার জন্য কি একটা সুন্দর পৃথিবী কেউ গড়ে দিতে পারে না মা?"

"বাবা, তোমার কি মনে পড়ে প্রথম যখন আমি তোমার হাত ধরে স্কুলে গিয়েছিলাম? আমি হাটতে পারছিলাম না, তোমাকে বলতেই তুমি পুরো রাস্তা আমাকে কোলে নিয়ে বাসায় এসেছিলে! তোমার কত কষ্টই না হয়েছিল তাই না বাবা? জানো বাবা আমি একলা পথ হাটতে শিখেছিলাম! আমি চেয়েছিলাম তুমি যাতে আমার জন্য এত কষ্ট আর না কর! কিন্তু বাবা ঐ পশুগুলো সেটা চায় নি, তারা জানে না যে তারা তোমাকে কষ্ট দিতে চায়! তারা ভেবেছে আমি এগার বছরের শিশু আমি কিছুই বুঝি না! দেখো বাবা, বাসার কাছেই তো স্কুল ছিল, কিন্তু পশুগুলো আমাকে এ ক'দিনে রাস্তায় কি সব কথা বলেছে, কি আচরণ করেছে তুমি জান না বাবা! আমি তোমাকে, মাকে বলতে পারিনি এত নোংড়া কথা! লজ্জায় ঘৃণায় প্রতি রাতে শুধু কেঁদেছি!"

"তাদের দোষ নেই বাবা, তারা অসুস্থ! তাদের হয়ত ভাল চিকিৎসা দরকার! ছোট হলেও বাবা বুঝেছি, মানুষ খারাপ হতে পারে না, কিন্তু সমাজ অসুস্থ মানুষের জন্ম দেয়! ভবিষ্যতে যাতে কোন বাবার খুকির আর আমার মত কাজ করতে না হয়, সে জন্য অসুস্থ লোকগুলো যাতে সমাজে আর না জন্মে এমন ব্যবস্থা কি তোমরা করতে পারবে না বাবা?"

"আমি চলে যাচ্ছি মা! তুমি আমার কথা মনে করে কেঁদো না কেমন? তুমি আমার জন্য যে নীল জামাটা পরশু কিনে এনেছিলে সেটা তো আমার পরাই হল না মা! দেখ কি কান্ড স্কুলের কারণে সুযোগই পেলাম না, তুমি হয়ত ভেবেছ সেটা আমার পছন্দ হয়নি! বিশ্বাস কর মা এখানে কেউ মিথ্যে বলে না! জামাটা অনেক সুন্দর! তুমি সেটা আনিসাকে দিয়ে দিও! তুমি যখন জামাটা শপিং ব্যাগ থেকে বের করে আমার হাতে দিয়েছিলে মা, তখন সে জামাটার দিকে তাকিয়ে ছিল! আমি বুঝতে পেরেছিলাম মা তার জামাটা অনেক পছন্দ হয়েছে!"

"বাবা, আমি পরীর দেশে চলে গেলাম! এখানে আমার মত কত পরী জান?? সবাই রাগ করে পৃথিবী থেকে চলে এসেছে! অনেক অনেক শিশু পরী, মেয়ে পরী! এখানে আমি অনেক ভাল আছি বাবা! কোন কষ্ট নেই, কোন নোংড়া পশু নেই যে আমাদেরকে থাবা বাড়িয়ে দেবে! আমাদের মত অনেক পরী বাবা পৃথিবীতেও আছে, তারা সুযোগ পায় না আমাদের এখানে আসার! অনেকেই রাস্তাটা চেনে কিন্তু বাবা-মার দিকে তাকিয়েই কষ্ট পায় তাদের ছেড়ে আসতে! বাবা তুমি তাদের খোঁজ নিও! তাদের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে! তাদের না বলা কথাগুলো শোনার চেষ্টা করো! তাহলে আমি ভাল থাকব! আমরা ভাল থাকব!" ...

তেপ্পান্ন তাস


জীবন নামের কারাগার অনেকটা তেপান্ন তাসের কানা গলির মতো মাঝে মাঝে বিচিত্র হয়ে উঠে। আর এই তেপ্পান্ন তাসের একটা খেলা হচ্ছে পোকার। বিষণ্ণ মলিন এই মেয়েটা নিয়মিত পোকার খেলে। এটাই এখন তার জীবন। এটাই তার একাকীত্ব জীবনের সঙ্গী। অথচ তার এখন হাসিখুশি না থাকার কোন কারন ছিলও না। কি নেই তার? কিসের অভাব? হুম সব কিছুর মাঝেও তার একটু খানি সঙ্গের বড্ড অভাব। আর যখন পোকার টেবিলে ভীষণ চঞ্চল এই মেয়েটার প্রচণ্ড ঝগড়া হচ্ছে সুইডিশ একটা ছেলের সাথে তখন অন্যেরা বেশ মজা নিয়েই সেটা উপভোগ করছে। মেয়েটা শেষ পর্যন্ত হারেনি। কিভাবে কিভাবে যেন ছেলেটার সব চিপস নিয়ে ফেলল। ইমেলেন নামের ছেলেটা কিন্তু ভীষণ ধীর স্থির তার হারার কথা ছিলও না। তবুও কেন যেন হেরে গেলো সে। শেষমেশ সে বাডি অফার করলো মেয়েটাকে যাতে পরবর্তীতে হারাতে পারে। ভীতুর ডিম এই বাঙালি মেয়েটাকে হারানোর জন্য এখন ইমেলেন সব সময় পোকার টেবিলে বসে থাকে আর নাইমা নামের এই মেয়েটা তো আগে থেকেই পোকার পাগল। তাই ওদের নিয়মিত কথা হতে থাকল পোকার টেবিলে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ওরা বন্ধু হোল ফেবুতে। দিন গড়িয়ে যায় আর ওদের কথার পরিমান তার চেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে। আর কথার কোন শুরু শেষ নেই। কি নিয়ে যে কথা হয়না সেটাই ওরা জানে না। 

ইমেলেনের এখন আর পোকার খেলতে ভালো লাগে না। তার এখন নাইমার সাথে কথা বলতেই ভালো লাগে। ওরা শেয়ার করে ওদের ছবি একজন আরেকজনের সাথে। ইমেলেন চমকে উঠে, বাদামি চেহারার একটা মলিন মুখ দেখে। ওর মনে হয় অনেক অনেক বিষণ্ণ এই মেয়ে। ওর অনেক খারাপ লাগে। খুব ইচ্ছে হয় একটু ছুয়ে দিতে মেয়েটাকে। কিন্তু টা কি আর হয়? মাঝখানে যে যোজন যোজন দূরত্ব। কিন্তু ইমেলেন বুঝতে পারে ভীষণ রক্ষণশীল এই মেয়েটাকে তেমন কিছু বলতে যাওয়া মানে মেয়েটাকে হারানো। তাই সে সেই সাহস পায়না। ইমেলেনের খাওয়া ঘুম সব উলটপালট হয়ে যায়। সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ ইমেলেন এখন আর সফটওয়্যারে শান্তি পায়না। তার এখন ফিলসফি ভালো লাগে।

নাইমা সে খুব ভালো একজন বন্ধু পেয়ে বেশ খুশি। ইমেলেন নামের এই বিদেশি ছেলেটাকে তার বেশ ভালো লাগে। কতো কিছুই না জানে সে। যখন আকাশে অনেক মেঘ করে, যখন অনেক অনেক বৃষ্টি হয়, যখন এক ফালি চাঁদ মেঘের নিচ থেকে বের হয়ে আসে তখন আগের মতো আর উদাস হয়ে যায়না মেয়েটি। সে বেশ উপভোগ করে এই সব। ভালো লাগে তার নিচের দোকান থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চটপটি খেতে। তার চঞ্চলতা কমতে থাকে। সেখানে ধীরে ধীরে ফুটে উঠে নতুন সূর্যের দীপ্তি। সেই সূর্যের আলোয় আসে পাশের মানুষগুলো চমকে উঠে। কামনাসক্ত অনেক চোখ যারা এতো দিন খেয়ালি করেনি তারা চকচক করে উঠে। কিন্তু পরিপার্শ্ব থেকে হাজার মাইল দূরে যে এতো দিন বড় হয়েছে তার তো এতো কিছু বোঝার প্রস্নই আসে না।

ধিরস্থির ইমেলেন আর চঞ্চল নাইমা যেন বদলে যায়, সরে আসে নিজের কক্ষপথ থেকে অন্যের কক্ষপথে। এরি মাঝে বেশ সুন্দর একটা ছেলে প্রপোজ করে বসে নাইমাকে। জীবনের প্রথম প্রপোজ পেয়ে নাইমা বেশ অবাক হয়। তার চেয়ে বেশী পায় ভয়। উত্তেজিত নাইমা তখনই ফিরে আসে বাসায়। শেয়ার করে সব কিছু তার প্রিয় বন্ধুটির সাথে। ইমেলেন জিজ্ঞেস করে," আচ্ছা ভয় পাবার কিছুই নেই। এমনটা হতেই পারে। কিন্তু তুমি কি ছেলেটাকে ভালোলেগেছে?" ভীষণ লজ্জায় নাইমা উত্তর দেয়,"হুম"

ইমেলেনের সমগ্র পৃথিবী যেন পেন্ডুলামের মতো দুলে উঠে। দুলে উঠে প্রচণ্ড সমুদ্রে ঝড়ের মাঝে পরে যাওয়া কোন জাহাজের মতো। সে বলে," বেশ তো" তাহলে একটু দেখো যদি ভালো মনে হয় তবে রাজী হয়ে যেও" প্রিয় বন্ধুর কথায় ভরসা পায় নাইমা। সে কয়েকদিন পর ছেলেটাকে হ্যাঁ বলে দেয়।

জীবনের প্রথম ভালবাসার মানুষটিকে নিয়ে নাইমা খুব উত্তেজিত। সারাক্ষণ সে ফোন দেয় আদিবকে। আদিব কথা বলে অনেক। অনেক অনেক রসিক। নাইমা বেশ খুশী আদিবকে নিয়ে। ওরা মাঝেই মাঝেই ঘুরতে যায় রিক্সায় কিংবা আড্ডা দেয় কোন এক কফি হাউজে। এসবই সে প্রতিদিন বলতে থেকে ইমেলেনের সাথে।

পাগল প্রায় ইমেলেন সবই শুনতে থাকে। আর অনেক অনেক অনেক কষ্ট নিয়ে যেন জীবন্মৃতভাবে বেচে থাকে। তার ইচ্ছে হয় মরে যেতে। ইমেলেনের এমনিতেই হাতেগোনা অল্প কিছু বন্ধু। তারা কিন্তু বেশ বুঝতে পারে সবকিছুই। তারা অনেক বুঝাতে থাকে ইমেলেনকে। কিন্তু তাতে কি আর ভালবাসা কমে? ভালবাসা যে অপরিবর্তনীয় একটা বিষয়।

আদিব বেশ বুঝতে পারে এই মেয়েটা অনেক অনেক রক্ষণশীল। যেন একটা সদ্য ফোঁটা কুঁড়ি। তার খুব ইচ্ছে হয় ছিরে ফেলতে কিন্তু কোথায় যেন আটকে যায় সে। বারবার বারংবার। একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকা আদিব সব ছেড়ে দিয়ে নাইমার মাঝে বিলীন হয়ে যেতে চায়। সেও বুঝতে পারে সে ভালবেসে ফেলেছে নাইমাকে। তাই সে নাইমাকে স্পর্শ করতে পারে না। যখন আদিব তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে সবাই বেশ একচোট হেসে ফেলে। আদিব তুই তো এমন কথা অনেকবারি বলেছিস। আদিব বলে দেয় না দোস্ত এটাই শেষ। আমি আর অন্য কোন মেয়ের সাথে রিলেশন রাখবো না। সবগুলো ছেড়ে দিবো।

এদিকে নাইমার ফোন নাম্বার নিয়েছে ইমেলেন। মাঝে মাঝে ফোন দেয় সে। সুইডিশ উচ্চারনে ইংরেজি আর বাংলিশ ইংরেজি দুটো মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তবে বন্ধুত্তের খাতিরেই হোক কিংবা অন্য কারনে ওদের কোন সমস্যা হয় না। ইমেলেনের কয়েকজন বন্ধু ফেবুতে ফ্রেন্ড রিক পাঠায় নাইমাকে। কিন্তু কথা বলার সুযোগ হয়না তাদের। কারন নাইমা এখন অনেক ব্যস্ত আদিবকে নিয়ে।

এরি মাঝে একদিন নাইমা বই কিনতে চলে আসে নীলক্ষেত। সাথে একমাত্র বান্ধবী অ্যানা। তখনি নাইমার দেখতে পায় আদিব আর একটা মেয়ে খুব ঝগড়া করছে এক কফিশপে বসে। পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় নাইমা। শুনতে পায় মেয়েটা বলছে," যদি রিলেশন ব্রেক করতেই চাও তাহলে আমার সাথে রিলেশন করে ছিলে কেন? তুমি একটা ফ্রড", বিধ্বস্ত নাইমার জন্য এর বেশী কিছু দরকার ছিলো না। প্রচণ্ড শক পায় নাইমা। দ্রুত ফিরে আসে বাসায়। অনেক বুঝায় অ্যান। কিন্তু আজ যে আকাশে কালবৈশাখী। ডুকরে ডুকরে কান্না করতে থাকে নাইমা। সারাদিন নিজের রুম থেকে বের হয় না সে। যখন নাইমা চলে আসছিলো তখন ওকে দেখতে পায় আদিব। একেরপর এক মেসেজ করতে থাকে। একটাও খুলে দেখার ইচ্ছে হয়না নাইমার। শেষ পর্যন্ত সবকিছু শেয়ার করার মতো একটা মুখই মনে পড়লো ওর। ও ফেবুতে আসে ইমেলেনের সাথে কথা বলার জন্য। সেখানে এসেই এক গাঁদা মেসেজ পায় নাইমা। সবগুলো ইমেলেনের বন্ধুদের কাছ থেকে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে ইমেলেনের এক বছর আগের এবং বর্তমান ছবি। এবং ইমেলেনের সর্বশেষ এক বছরের ডায়েরীর ফটোকপির সফট কপি। সারারাত ধরে সেগুলো পড়তে থাকে নাইমা। সকালে সে ফোন দেয় ইমেলেনকে। 

তোমাকে একবার ছুয়ে দিতে ইচ্ছে করছে। ইমেলেন আদিবের কথা জিজ্ঞেস করে। নাইমা জানায় সব কিছু। তারপর আবার বলে তোমাকে খুব ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে। হাঁসপাতালের বেডে অসুস্থ ইমেলেনের জন্য আর কিছুর দরকার নেই। সে তখনি ঢাকার পথে রওনা দেয়ার চেষ্টা করে। বন্ধুদের সব বাধা উপেক্ষা করে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় চলে আসে। নাইমাকে যখন ফোনে বলে,"Naima i'm on Dhaka", নাইমা তখনি রওনা দেয় একটা ট্যাক্সি নিয়ে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে। আর আদিব নাওয়া খাওয়া ছেড়ে সারাক্ষণ নাইমাদের বাসার সামনেই বসে থাকতো কখন নাইমা বের হবে,  কখন নিজের সব ভুল স্বীকার করবে, সেই আশায়। উদ্ভ্রান্ত নাইমাকে ট্যাক্সি নিতে দেখে সেও বাইক নিয়ে পিছু নেয় নাইমার। এবার যে নাইমাকে বুঝাতেই হবে। কিন্তু হায় ভাগ্যের পরিহাস বড্ড তেপ্পান্ন তাসের মতো। ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়। 

এরপর নাইমা যখন বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রথম ইমেলেনকে দেখতে পায়, পায়ে পায়ে ফিরে যায় ইমেলেনের কাছে। তারপর পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে গত একবছরে অর্ধেক হয়ে যাওয়া ইমেলেনকে। আর তখন সমুদ্র যেন সান্ত হয়ে যায়। সব ঝড় যেন থেমে যায়।

আদিব যখন ওদের দেখতে পায় তখন আদিব শুধু বোবা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সেই দৃষ্টি একটা অবুঝ শিশুর অসহায় দৃষ্টি।

(সংগ্রহেঃ শিশিরের বিন্দু)

এক মুঠো স্বপ্নের একটি পকেট আছে.. হিমু নই, আমি নিরবতা...

এক.
দাড়িয়ে আছি একটা বিলবোর্ডের সামনে, জমকালো রঙের বিলবোর্ডটিতে পণ্যের বিজ্ঞাপনে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে একজন লাস্যময়ী হাত বাড়িয়ে আছে, যদিও পণ্যটাকে হাইলাইট করা হয়েছে কেবল একটি স্লোগানের মত বাক্যে - "আপনার সিদ্ধান্ত আপনার, হাসুন মনখুলে" আমি আসলে পণ্যটির সাথে লাস্যময়ীর সম্পর্ক, আর আমার সিদ্ধান্তের সাথে আমার মনখোলা-হাসির সম্পর্ক খুঁজে বের করতে হিমসিম খাচ্ছি, পণ্যটির ক্রেতা আমি নই, তবু হিমসিমের ক্রেতা হতে তো দোষ নেই।

বিকেলটাতে একটা হুহু বাতাস বয়ে যাচ্ছে, বাতাসের সাথে শীত মিশে থাকায় কেমন একটু শীত শীত লাগে, পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাটতে লাগলাম সামনের দিকে, একটু হেসেও দেখলাম আসলেই আমার সিদ্ধান্তের সাথেই আমার হাসির সম্পর্ক আছে কিনা, আছে তবে মেকি হাসির সাথে সম্পর্ক, যেমনটি বিলবোর্ডের লাস্যময়ীর হাসি, সব কিছুই হাসছে তবু চোখটা কেমন যেন গম্ভীর, চোখটা হাসতে ভুলে গেছে 'সিদ্ধান্তের' ভাবনা ভাবতে গিয়ে। হাসতে গেলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা কতটা জরুরী? হুমম..

চোখের ভাষা শিক্ষা একটা কোর্স চালু করা উচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, ডিপ্লোমা কোর্সও হতে পারে, আই.ই.আর এর অন্তর্ভুক্ত 'চোখ ভাষা শিক্ষা' চোখ দেখে মানুষের মানসিক আচরনের আসল-নকল খুঁজে বের করা। ভাগ্যিস চোখ শব্দ করতে পারে না, পারলে মনের ভাষা প্রকাশে, মুখের চেয়ে চোখই অগ্রজ হতো। তখন কেউ মুখকে বিশ্বাস করতো না চোখকে বিশ্বাস করতো আর মুখটি হয়ে যেতো অকেজো। থাক 'চোখ ভাষা শিক্ষা' কোর্সের কোন দরকার নেই, তাহলে একটা বড় অংশের মানুষই নির্বাক হয়ে যাবে। ধুর কি সব ভাবছি! নিজেকে একটা শক্ত ঝাঁকি দিলাম।

দুই.
সকাল থেকে হিমুটার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কম করে হলেও পাঁচবার, এই হিমুটা এক হিমু নাম পেয়েই হিমু হয়ে গেছে, আমি হিমশিম এবং হোঁচট দুটোই খেয়েছি ওকে এটা বোঝাতে গিয়ে যে, বাস্তবতা লেখকের হাতে কখনোই ছিলনা, যেমনটি বাস্তবের আমরা নই, লেখকরা কেবল কল্পনার চরিত্রকে বাস্তবতায় ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে কল্পনা আর বাস্তবতা গুলিয়ে ফেলে, যেমনটি হিমুকে গুলিয়ে ফেলেছে উপন্যাসের হিমু। দুইটা কি তিনটা হিমু-ইক বই পড়ে কত লোক যে হলুদ পাঞ্জাবী আর খালি পায়ে রাস্তায় নেমে যায়, পরে দুই দিন হিমু থাকার পর খায়েশটা চলে যায় আবার ফিরে আসে নিত্য-নৈমিত্তিক জীবনে, ফিরে এসে বেশ ক'দিন একটু উদাস থাকে পরে আবার স্বাভাবিক। সবক'টি বই পড়লেও হিমু হওয়া আমার জন্য একটা হাস্যকর ব্যাপার। গল্পের প্লাটফর্মে ঘোড়ার পাখা থাকে, আলাদিনের দৈত্য থাকে আর হিমুর থাকে পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী আর বাই-ডিফল্ট খামখেয়ালীপনা তাতেই মুগ্ধ হয়ে বাস্তবের হিমুরা গল্পের প্লাটফর্মে পা বাড়ায়। আমার পকেটে আমি স্বপ্ন ভরেছি পকেট আমার থাকতেই হবে।

হিমু আমার অন্যতম একটা ফাঁকা-দোস্ত, অনেকটা গণিতের ফাঁকা-সেট এর মতো, ফাঁকা সেটের অস্তিত্ব আছে কিন্তু ভ্যালু গণনা করার মতো নয় এমন শুন্য স্থান। হিমুও আমার জীবনে একটা অস্তিত্বে আছে কিন্তু ওর ভ্যালু গণনার মতো নয়, অমূল্য বলবো নাকি মূল্যহীন বলবো এটা নিয়ে একটু কনফুশনে আছি, ও আমার জীবনে একটা মূল্যহীন-অমূল্য জায়গা দখল করে আছে। ওকে খোঁজার মূল কারন হলো ওর সাথে গল্প করা কিছুক্ষন, হিমুর সাথে গল্প করার ফ্লেভারটা একটু অন্যরকম, হিমু হতে পেরে ও হয়তো কিছু পাচ্ছে না, খামখেয়ালীপনা ছাড়া; কিন্তু চারপাশের মানুষরা কিছু বিনোদন পাচ্ছে আর আমি পাচ্ছি মন ভালো করার উপকরণ। ওর সাথে গল্প করলে প্রথমেই ও একটা হাসি দিবে তারপর কিছুটা অপ্রস্তুত হবে, যা গল্পের হিমুর নেই তারপর আমার হাত দুটি টেনে নিয়ে এক জায়গায় বসে পড়ে সারাদিন কি কি করল কিভাবে হিমু-ইক কর্মকান্ড চালালো তার নিঁখুত বর্ণনা দেবে তারপর গল্প শেষে বাড়ির পথে, গল্পের হিমুর বাপ নেই বাস্তবের এই হিমুর আছে এবং প্রচন্ড রাগীও বটে তাই হিমুর হিমু হয়ে ওঠার প্রতিবন্ধকতা অনেক।

তিন.
সন্ধ্যা হতে চলল, সূর্য্যটা এ সময় লাল রঙ মাখাতে ভালবাসে চারপাশে, এ গোধূলী সময়ে চারপাশে মোহনীয়তা ভর করে, সব কিছু মায়ায় আচ্ছন্ন হবার প্রয়াসে ব্যস্ত হয়ে যায় যেন, নিজেকে মায়াময় ভাবতে ভাল লাগে। হিমুকে খোঁজার প্লান বাদ দিয়ে নদীর পাড়ে বসার একটা নিঁখুত পরিকল্পনা মনে গেঁথে নদীর দিকেই আগাতে লাগলাম, এ সময় সন্ধ্যার সাথে নদীকে সবাই বিদায় জানিয়ে সব গল্পগুলো পিছনে ফেলে নিজের যাপিত জীবনে ফিরে যায়। বসে পড়লাম সবুজের উপর। নদীর ঠিক মাঝ খানে একটি নৌকা এক টুকরো পিদিম জালিয়ে পানিতে দুলছে, অসাধারণ দৃশ্য গুলোর একটি, চারপাশে আলো আর আধারী খেলা জমাতে মেতে উঠেছে আমি একা দর্শক যেন।

চারপাশের নিরবতা আমাকে গ্রাস করুক, শুভ সন্ধ্যা।

চার.
আমার পদ-যাত্রা সন্ধ্যার নিয়ন আলোয় হিমু-ইক পদচ্ছাপ আঁকে, হিমু হতে ইচ্ছে করে। হিমু সেদিন বলেছিল, "হিমু হবি? চল তুই আমি মিলে হিমু-হিমু" আমি বলেছিলাম, "হিমুদের পকেট থাকতে নেই"

আমি কোনদিন হিমু হব না, আমার আছে পকেট।

পাচ.

দিনগুলি ধীরে ধীরে আমাকে পুড়ে ফেলছে বদ্ধ খাঁচায়, বদ্ধ খাঁচায় আমার যাপিত জীবন নিরিবিলি, নীল আকাশের ব্যপ্তি শুধু দু'পাল্লার খোলা জানালায়, তারপরও ঐ টুকু আকাশের বেশ কিছু অংশ জুড়ে পাশের বাড়ির 'গাজী ট্যাংক'টি। বাকীটুকু আমার আকাশ। নিরবতা অনুলিপিতে কদাচিৎ কাঠঠোকরার ঠক ঠক, ঠক ঠক বাকীটুকু আমার আমি। আমার নামের সাথে এ সব কিছুর-ই মিল।

আমি নিরব।

বয়ে চলা জীবনের তরীতে ভাসিয়ে চলি এক মুঠো স্বপ্ন-ফসল কে পুঁজি করে। দাড় বাইতে যতটুকু পানি সরাতে হয় তার থেকে ঢের বেশি পানি আমার নৌকার তলায় উঠছে নামছে। নিঃসঙ্গতা নয় নির্লিপ্ততা, বাস্তবতা নয় নৌকার বৈঠা।

ছয়.

হিমুর ভাবখানা অতি আমোদী, যেন সে খুব সুখে আছে, দু'বিঘা জমির বদলে বিশ্ব-সংসার তার হাতের মুঠোয় টাইপের আমোদী। আমার চোখের ভাষা পড়ার সব টুকু রিসার্চ হিমুর উপর প্রয়োগ করে ওর সব টুকু ভাষা অবলোকনের নিয়ত মানসিক চেষ্টা বহাল তবিয়তে, তথ্য সাজাতে ব্যস্ত। ওর চোখে বলছে এখন ও চিন্তা করছে ওর চেহারা বলছে 'সব কিছু ওকে বস, আমি পুরা খাল্লাস" ওর চিন্তার উৎসটা যে কম গুরুত্বপূর্ন না সেটা বুঝতে বেশি বাকী রইল না। ওর কি হয়েছে জিজ্ঞেস করার ইচ্ছা কখনো জাগে না, কিছু কিছু হিমু না হয় হিমুই থাক, অনেক সুখে আছে বাস্তবতা কে লাথি মেরে, বাস্তবতাই অভিনয়, হিমুরা অভিনীত নয় অভিনেতা।

হিমুরা বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে চলে, নিরবরা পাশ কাটায় বাস্তবতা আর হিমুদের, নিরবদের জন্য পড়ে থাকে শুধুই নিরবতা।

ভালবাসা কি?

ভালবাসা শব্দটার মানে কি? প্রশ্ন করেছিলাম খুব কাছের কিছু বন্ধুদের। ভালবাসা মানে ফিলিংস, অপ্রকাশ্য অনুভূতি। কেউ বলে ভালবাসা সীমাহীন তাই একে ডিফাইন করা যাবেনা এক শব্দে। প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা বুঝতে হলে তোকে প্রেম করতে হবে। ফিলিংস কি কখনও শেয়ার করা যায়? এটা হচ্ছে উপলব্ধির ব্যাপার। আর সেই উপলব্ধি তখনি আসবে যখন তুই প্রেমে পড়বি। এভাবে অনেকভাবে তারা আমাকে ভালবাসার মানে বোঝাতে চেষ্টা করে।

খুব ভাল লাগে যখন দেখি এই ভালবাসার জন্য কেউ তার ফ্যামিলি ত্যাগ করে, বন্ধুদের ত্যাগ করে। ভাললাগে এই কারণে যে ভালবাসার শক্তি আসলে অপরিসীম। তা না হলে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কিভাবে ত্যাগ করা যায় শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণে? এই ভালবাসা নিয়ে আছে ভালবাসা দিবস। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে এই দিবসের গুরুত্ব ভয়াবহ। আর যারা ভালবাসা কনসেপ্টকে পছন্দ করেনা তাদের নিকট ভালবাসা দিবস শুধুমাত্রই বাণিজ্যিক, বাহ্যিক। আমি অবশ্য এই দুই দলের কোনটার মধ্যেই পড়িনা। কারণ ভালবাসা ব্যাপারটা আমার কাছে খুব একটা খারাপ লাগেনা। এই কারণে ভালবাসা দিবসের মানে আমি এই বুঝিনা যে শুধু এই দিন ভালবাসার দিন, বাকি দিন নয়। আসলে দিনটা একটা উপলক্ষ্য, তবে এই উপলক্ষ্যের কার্যাবলী সারাবছর ব্যাপী থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই ভালবাসা দিবসকে আমি বাকা চোখে নেইনা। যদিও ভালবাসা দিবসের শুরুর কাহিনী আমাকে ইন্সপায়ার করেনা ভালবাসার জন্য বাট ভালবাসা আমাকে ইন্সপায়ার করে ভাল কিছু করার জন্য।

প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা আমার কাছে কিছুটা আজব মনে হয়। একজনের প্রতি ভাললাগা আসতেই পারে কিন্তু তার জন্য আমার সারাটা দিন ব্যয় করা, তার সাথে ভালবাসার ফিলিংস শেয়ার করা, রাত জেগে মোবাইলে কথা বলা, ছুটির দিনে ঘুরতে বের হওয়া ইত্যাদি এসব কনসেপ্ট আমার ভাল লাগেনা। সবচেয়ে যে ব্যাপারটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তা হল অন্যের প্রতি আমার ফিলিংস কিভাবে আসতেছে? আমি কি তার ক্যারিয়ার, স্মার্টনেস, আউটলুক দেখে ভালবাসার প্রতি ইন্সপায়ার হচ্ছি? নাকি অন্য কিছু? যদিও যারা প্রেম করে তাদের কাছে এই প্রশ্ন করলে তারা বলে, ওর মনটা অনেক ভাল, তাই ওকে আমি অনেক ভালবাসি। কিন্তু তাদের প্রেমে পড়ার কাহিনী শুনলে দেখে যায় তারা কখনও মন দেখে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। তাদের প্রেমে পড়ার ইতিহাস থেকে দেখা যায় কেউ কোন অনুষ্ঠানে গিয়েছে সেখানে প্রথম দেখাতেই প্রেম। কিংবা একি সাথে লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করে সেই থেকেই প্রেম। কিংবা আননোন মোবাইল থেকে ম্যাসেজ/ভয়েস শুনে প্রেম।

এভাবেই বেসিক্যালি আজকের যুগে ভালবাসা শুরু হয়। সেখানে দুইজন মানুষের আদর্শিক মিল খুব কমই হয়। তাই প্রেমিক-প্রেমিকার মন কষা-কষি লেগেই থাকে। পরে অবশ্য তারা বলে যে এই মন কষা-কষি নাকি তাদের ভালবাসার ফিলিংস আরো বাড়িয়ে দেয়। একজন আমাকে খুব আফসোস করে বলতেছিল যে তার জিন্স ও ফতুয়া পরার খুব শখ কিন্তু তার বয়ফ্রেন্ড এটা খুব অপছন্দ করে। তাই সে পরতে পারেনা। আমি তাকে সেদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম তোমার এমন আর কি কি শখ আছে যা তোমার বয়ফ্রেন্ড অপছন্দ করে? সে বলল অনেক কিছুই। এই যেমন আমি খুব ভাল গান পারি বাট আমার বয়ফ্রেন্ড চায়না যে আমি কোন প্রোগ্রামে গান করি। এরকম আরো বহু কিছু। তখন তাকে বললাম তাহলে কেন তুমি তাকে ভালবাস যে তোমার পছন্দের কোন মূল্য দেয়না? সে খুব সহজ সরলভাবে বলল ‘আসলে জান ও আমাকে অনেক ভালবাসে তাই ও চায়না যে আমি খুব বেশি এক্সপোসড হই।‘’ তোমার কি মনে হয় এতে কি তুমি নিজেকে বেশি এক্সপোসড করতে চাও? আরে কি যে বল! আমি তো শুধু চাই আমার শখ পূরণ করতে অন্য কিছুনা। ওর খুব দ্রুত জবাব। তাহলে কেন তুমি শুধুমাত্র তোমার বয়ফ্রেন্ড এর জন্য তুমি এসব মেনে নিচ্ছ? কারণ আমি যে তাকে অনেক ভালবাসি তাই। ভালবাসার মানুষের জন্য অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করা যায়, তুমি এসব বুঝবানা…..আমি আর বুঝতেও চাইনা।

প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে আইডিওলজিক্যাল কনসেপ্ট এর মিল খুব একটা গুরুত্ব বহন করেনা। তাই তো তারা একে অন্যের জন্য নিজের সব শখ, ভাললাগাকে বিসর্জন করতে পারে অনায়াসেই। কিন্তু ব্যাপারটা এরকম নাও হতে পারত। হতে পারত ভালবাসার জন্য নিজের কোন কিছু বিসর্জন করা লাগবেনা বরং সেটাকে গ্রো করার জন্য একে অপরের সহযোগীতার হাত প্রসারিত হবে। তাহলে কেন এই সংকীর্ণতা?

বিশ্বাস। হ্যা বিশ্বাসের অভাব। আজকাল ভালবাসার মধ্যে কোন বিশ্বাস নাই। তাই তো একে অপরের প্রতি সন্দিহান সর্বদা। কোথায় গেল, কি করল, কার সাথে মোবাইলে কথা বলল, কার সাথে কলেজে মেলামেশা করে ইত্যাদি হাজারো রকম সন্দেহ।
যদি বিশ্বাস অর্জন না করা যায় তাহলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা আসেনা। তাই আজকাল ভালবাসা খুব সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ভালবাসা মানেই কেবল ঘোরাঘুরি, রাত জেগে কথা, চ্যাটিং, সন্দেহ আর মন কষা-কষি। এই সার্কেলেই চলছে বর্তমান ভালবাসা। খুব অবাক হই এক্ষেত্রে চিন্তার ম্যাচিউরিটি খুব কম মানুষের মধ্যেই আছে। ম্যাচিউরিটি আজকাল শুধু বয়স দ্বারা হিসাব করা হয়। ছেলে-মেয়েরা চিন্তা করে তারা এখন বড় হয়েছে, যথেষ্ট মাচিউরড সো তারা ভালবাসতেই পারে!

সত্যি কথা বলতে কি চিন্তার ম্যাচিউরিটি ধর্মীর অনুশাসন ছাড়া পূর্ণতা পায়না। এতে অনেকেই আমার সাথে আপত্তি জানাতে পারে। কিন্তু আমি দেখেছি খুব সচেতন মানুষ যে মৌলিক গুনাবলি সম্পন্ন তার সচেনতা অনেক সময় তার পরিবার, তার আত্মীয়, বন্ধুদের জন্য কোন উপকার আনেনা। বরং সেই মানুষও কোন এক সময় এমন ভুল করে যা তার দ্বারা অসম্ভব ছিল। মানুষ ভুলের উর্দ্ধে নয় কিন্তু এই ভুল তার অপূর্ণ ম্যাচিউরিটির সাক্ষ্য বহন করে।

বলছিলাম ধর্মীয় অনুশাসনের কথা। আমার খুব কাছের একজন বান্ধবি এক হিন্দু ছেলের প্রেমে পড়ে। প্রেম তো প্রেম একেবারে মহামারি অবস্থা। কেউ কাউকে ছাড়া বাঁচবেনা। ফ্যামিলি থেকে যখন ব্যাপারটা জানাজানি হল তখন আমার ফ্রেন্ড এর মা বলল যে আমি যেন ওকে খুব ভালভাবে ইসলামের গুরুত্ব বুঝিয়ে ওই হিন্দু ছেলের কাছ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনি। এখন কেন তাকে আমি ইসলামের গুরুত্ব আলাদাভাবে বুঝাব? যে ফ্যামিলি থেকে কখনও ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বসহকারে দেওয়া হয়নি তারাই কোন এক সময় ধর্মের আশ্রয় নিয়ে সমাজে নিজের প্রেস্টিজ রক্ষা করতে উঠে পড়ে লাগে। তারপর আর কি! খুব দ্রুত মেয়ের ফ্যামিলি থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

আজকাল ছেলে-মেয়েদের অবসর সময় কাটে লাভারের সাথে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে। ভালবাসার মানে যে কেবল এগুলো নয় এটা তাদের চিন্তায় ঢুকেনা। এফ.এম রেডিও শুনলে দেখা যায় ইয়াং জেনেরেশান এর খুব কঠিন সমস্যা হচ্ছে এসব এফেয়ার জনিত সমস্যা। অথচ এখনও পৃথিবীতে মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে, প্রতিদিন হাসপাতালে মানুষ মৃত্যু যন্ত্রনায় কষ্ট পাচ্ছে, কেউবা অভাবের তাড়নায় খারাপ পথে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে, কত ছোট ছোট নিষ্পাপ শিশু হাতে বই-খাতার বদলে ফুল নিয়ে রাস্তায় বিক্রি করতে পথে নামছে এসব সমস্যা যেন তাদের ভালবাসার সমস্যার কাছে কিছুই না। তাদের ভালবাসার ভাগিদার কেবল বয়/গার্লফ্রেন্ড। ভালবাসার মানুষের সাথে গল্প করার বিষয় কেবল কখন কি করল, কি দিয়ে খাইল, কে কাকে কতটুকু ভালবাসে ইত্যাদি।
কেন একটু ভালবাসা কি আমরা সেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য রাখতে পারিনা? আমরা কি পারিনা ভালবাসা দিবসে তাদের সাথে আমাদের ভালবাসা শেয়ার করতে? সংকীর্ণ ভালবাসাকে আকাশের মত উদার করতে আমরা কেন এত কার্পণ্য করি? কেন আমরা আদর্শিক কনসেপ্ট এর মিল না খুজে শুধুমাত্র আউটলুক দেখে অন্যের প্রতি ভালবাসায় ইন্সপায়ারড হই?

আদর্শিক কনসেপ্ট এর মিল থাকলে ভালবাসার মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়,একে অন্যের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ ডেভেলপ করে। একটা নির্দিষ্ট আইডিওলজিকে এস্টাবলিস করতে দুইজনের আপ্রান চেষ্টা ভালবাসার গভীরতা আরো বাড়িয়ে দেয়।
আমার ফ্রেন্ড আমাকে প্রায় বলে আমার মধ্যে নাকি এক ধরনের ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে ভালবাসার বিরুদ্ধে। আমি সো কলড বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েদের ভালবাসাকে খুব অপছন্দ করি। তাদের ভালবাসা দিবসে নিছক ফুল দিয়ে ভালবাসা উদযাপনকে খুব ঘৃণা করি। ভালবাসার নামে অনর্থক অপব্যয়কে ভালবাসার অবমূল্যায়ন মনে করি। তাই এর বিরুদ্ধে এক ধরনের ইমিউনিটি আমার সত্যি সত্যি তৈরি হয়েছে। কারো প্রেমে পড়িনি কিন্তু তাই বলে ভালবাসার মূল্যায়ন যে কেবল প্রেমিক-প্রেমিকারাই করতে পারে এটা বিশ্বাস করিনা।

বিয়ের আগে প্রেমকে আমি কখনই সাপোর্ট করিনা। সেক্ষেত্রে আমার লজিক হচ্ছে আমি কেন এমন কারো সাথে আমার ফিলিংস শেয়ার করব যে সেই ফিলিংস শেয়ার করার অধিকার রাখেনা? আমার ফিলিংস তো এত সস্তা না যে শুধুমাত্র বিশ্বাস দিয়ে হৃদয় সংযোগ ঘটাব? আর তারপরে ভালবাসার সাগরে হাবুডুবু খাব। হা..হা..

মানুষের মৌলিক গুনাবলিকে সুন্দর একটা শেইপ এনে দেয় ধর্মীয় অনুশাসন। কারণ ভালবাসার ফিলিংস এই মৌলিক গুনাবলি সবার মধ্যেই থাকে কিন্তু সেই ফিলিংসটা কিভাবে কাজে লাগাতে হয় তা ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া পূর্ণতা পায়না। যদি আমাদের ভালবাসা হত সমাজের নিরীহ, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি তাহলে চিন্তা করে দেখুনতো এই ভালবাসা হত বিরাট এক শক্তি যা পারমানবিক শক্তিকেও হার মানাত। ডিজিটাল সমাজের ভিত্তি হতে পারত এই ভালবাসা। অথচ আজ সমাজে ভালবাসাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার তরুনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে, কেউ মাদকাসক্ত হচ্ছে, কেউ আন্ডারওয়ার্ল্ডে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু ভালবাসা তো শুধুই সৃষ্টির জন্য ধ্বংসের জন্য না! কে তাদের শিখাল যে ভালবাসা কেবল ছেলে-মেয়ের মধ্যেই হতে পারে? কারা সমাজের তরুণ প্রজন্মকে ভালবাসার ভুল অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে চিন্তাশূন্য করে গড়ে তুলতেছে?

বিশ্বাসহীন, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধশুন্য ভালবাসার শক্তি আজ সমাজে তাই চরম বিভীষিকা। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি ? প্রয়োজন আমাদের চিন্তাশক্তির ম্যাচিউরিটি,প্রয়োজন ভালবাসার সঠিক ক্ষেত্র উপলব্ধি তার সাথে সাথে এসবকে সুন্দরভাবে শেইপ করার জন্য দরকার ধর্মীয় অনুশাসন যা সর্বদা চার্জের মত কাজ করে। অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিনিয়ত প্রাক্টিক্যাল চার্জ ভালবাসাকে নিয়ে যায় সুন্দর কোন প্রান্তে যা কখনও বিভীষিকা ছড়ায়না......(লিখেছেনঃ সেতু জোহরা)

এক নাস্তিক আমাকে একদিন প্রশ্ন করলো...

(লিখেছেনঃ মাহমুদুর রহমান সযয়)


এক নাস্তিক আমাকে একদিন প্রশ্ন করলো
নাস্তিকঃ ভাই ইশ্বর চোখে দেখি নাই তাই বিশ্বাস করি না্ ।
আমিঃআচ্ছা আপনার বাবার নাম কি ?
নাস্তিকঃ বদরুল ।
আমিঃ না বদরুল আপনার বাবা না ।
নাস্তিকঃ কেন ?
আমিঃ আচ্ছা বলুন তো বদরুল আপনার বাবা সেটা আপনি জানলেন কি ভাবে ?
নাস্তিকঃ সেটা আমাকে আমার ফ্যামেলি বলেছে ।
আমিঃ আরে ভাই আপনার প্যামেলি যেটা বললো আপনি বিশ্বাস করলেন আর নবী যেটা বলছে সেটা বিশ্বাস করেন না ?
নাস্তিকঃ না মাইনে............

মোবাইল ফোনে প্রেম, অসময়ে ধ্বংস সাথীর জীবন।


(লিখেছেনঃ হাফসা খান)




পিতা ব্যাংক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন মেয়েকে শখ করে দামি মোবাইল ফোন সেট কিনে দেন সে কখন কোথায় থাকছে তার খোঁজখবর নেয়ার জন্য। কিন্তু মোবাইল কাল হয়ে দাঁড়ায়। স্কুলে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, রাতে না ঘুমিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকে মেয়ে। না দেখেই মোবাইল ফোনে একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় তার। সম্পর্ক গড়ে ওঠার কয়েক মাস পর তাদের দু’জনের দেখা হয়। কিন্তু দেখা হওয়ার পর জানা যায় ছেলেটি মোবাইল ফোনে খুব ভাল কথা বলতে পারলেও লেখাপড়া কিছুই জানে না। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। এরপর প্রচণ্ড মানসিক আঘাত। আশাহত অনুভূতির প্রচণ্ড চাপ। এ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতা। ঘটনাটি দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাথীর। মা আফসানা বেগম তাকে নিয়ে এসেছেন ধানমন্ডির মনোজগত সেন্টারে। মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য। তার রঙ ফরসা। শরীর শীর্ণ। অসম্ভব রোগাটে, মাথা ন্যাড়া। মা জানালেন তার মেয়ে প্রায় এক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে। কিন্তু এ বয়সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে- এটা কি বংশীয় অসুখ? নাকি অন্যকিছু। এত প্রশ্ন শুনে মুখে আঁচল চাপা দেন মা। প্রশ্ন এড়াতে মেয়েকে নিয়ে একপাশে সরে গেলেন। কাছে গিয়ে আবারও প্রশ্ন করতেই ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলেন। বলেন, বংশীয় কোন অসুখ নয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা বলেন, আমার মেয়ে খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। ফাইভে ও এইটে দু’টোতেই বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু এখন অসময়েই ওর জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। মা বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টিকে আমরা এত গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু ও হঠাৎ খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দিল। বান্ধবীদের সঙ্গে আর মেশে না। টিভি দেখে না। পড়াশোনা করে না। ওর শরীর আস্তে আস্তে খারাপ হতে লাগল। উল্টাপাল্টা কথা বলে। আমরা কি হয়েছে জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেয়ের মুখ দিয়ে একটি কথাও বলাতে পারিনি। অথচ ওর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। অবস্থা এমন হলো যে ও আর বাথরুমেও যায় না। ঘরেই বাথরুম করে নোংরা করে রাখে। পরে ওর এক বান্ধবীর কাছ থেকে আমরা জানতে পারলাম কিন্তু এসব বিষয় আমাদের কাছে কিছুই বলেনি। ধীরে ধীরে ও নিজেই নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে শেষ হয়ে যেতে থাকে। ও যখন পুরোপুরি অসুস্থ তখন আমরা ওর এক বান্ধবীর মুখে ঘটনা শুনতে পাই।
বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠছে। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর তারা যখন একের অপরকে দেখেছে তখন তাদের সাজানো মানুষটির সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকছে না। তখন ঘটছে বিপর্যয়। অনেকেই বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে পারলেও অনেকেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বিমর্ষতায় ভুগছে নয়তো মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু যে মোবাইল ফোনে প্রেমের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা নয়। মোবাইল ফোনে প্রেমের অভিনয়ের জন্য পেশাদার একটি চক্রও গড়ে উঠেছে। গত মাসে র‌্যাব-৩ আসমা নামের এক মেয়েকে গ্রেপ্তার করে গুলিস্তান এলাকা থেকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। এরপর প্রেমিককে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে তার বাবা-মায়ের কাছে মুক্তিপণ আদায় করতো। এ সময় পেশাদার মোবাইল প্রেমিকা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে মিসড কল দেয়। কোন ছেলে কণ্ঠ ফোন ব্যাক করলে মিষ্টি কণ্ঠে কথা বলে। কথার জালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রথম দিকে তারা প্রায়ই ছেলেটিকে মোবাইলে টাকা পাঠাতে বলে। এরপর সব ঠিকঠাক করে ছেলেটিকে তাদের আস্তানায় আসতে বলে। এরপর তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এছাড়া ইন্টারনেট বেশ কিছু বাংলা ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে স্মার্ট নারী কণ্ঠের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা কথা বলা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে ডেটিংও করা যায়। এ ধরনের শতাধিক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। মনোজগত সেন্টারের চিকিৎসক বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, মোবাইল ফোনে প্রেম-পরবর্তী অবসাদ সংক্রান্ত কেস প্রায়ই আসছে। অনেক ক্ষেত্রে ছেলেটিকে না দেখেই অল্পবয়সী মেয়েরা মোবাইল ফোনে সুন্দর কণ্ঠস্বর শুনে পুরুষটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কিন্তু পরে যখন তারা একে অপরকে দেখেছে তখন তাদের কল্পনার সঙ্গে মিলছে না। এসব ক্ষেত্রের মেয়েরাই বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। কল্পনার মানুষটির সঙ্গে না মেলায় এক ধরনের আশাহত অনুভূতির চাপে ভুগছে মেয়েটি। এখান থেকেই তার মানসিক রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েটি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক মেয়ে পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ছেলেটি মেয়েটির নানা ধরনের ছবি তুলে রাখছে। পরে মেয়েটিকে ওইসব ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। যার পরিণতিতে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। ফিরোজ বলেন, এ ধরনের অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো সন্তানের ওপর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো। সন্তান কোথায় যাচ্ছে কি করছে সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধাও আছে। সমাজে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে এ জন্য মোবাইল ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে একটা আইন করা জরুরি। যে আইনে বলা হবে কত বছর বয়স পর্যন্ত মোবাইল ফোন কেনা যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বাবা-মা সন্তানদের কাছে ওপেন বা ফ্রি নন। বাবা মা যদি ফ্রি হন তবে সন্তান কোথায় কি করছে তা তারা জানতে পারতেন। সন্তান বাবা-মাকে লুকিয়ে কোন কিছু করতো না। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা থেকেই সন্তানকে রক্ষা করা যেতো।

প্রতিটি মেয়েকে শ্রদ্ধা করুন ।

(লিখেছেনঃ লিমা আক্তার)


প্রতিটি মেয়েকে শ্রদ্ধা করুন। কারণ...

* একটা মেয়ে আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টিগুলোর মধ্যে একটি ।
* সে খুব ছোটবেলা থেকেই সবকিছুর কারন বুঝতে শিখে ।
* সে নিজে চকলেট না খেয়ে ছোট ভাইটিকে দিয়ে দেয় ।
* সে তার পিতামাতার জন্য নিজের ভালবাসা উৎসর্গ করে ।
* সে তার স্বামীর আরাম-আয়েসের জন্য নিজের সুখ ত্যাগ করে ।
* সে তার পুরো যৌবন ত্যাগ করে কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়া শুধুমাত্র তার স্বামী ও সন্তানের জন্য ।
* পরিশেষে তার জীবন শেষ হয় শুধুমাত্র অন্যের সুখের জন্য নিজের সুখ ত্যাগ করে ।
* সে সৃষ্টিকর্তার এমন একটি সুন্দর সৃষ্টি যে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে না ।
* প্রতিটি মেয়েকে শ্রদ্ধা করুন । আপনি নিজেও জানেন না আপনার জন্য " সে " কি সেক্রিফাইস করবে ।