expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>
চলছে । চলবে । অবিরাম...
এক গুচ্ছ লেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এক গুচ্ছ লেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পরিণতি

অফিস থেকে সাধারণত বাসায় যাই। বাইরে ঘোরাঘুরির অভ্যাস একদম নেই। বাসায় যাব মনে করেই অফিস থেকে বের হলাম। কিন্তু বাদ সাধল একটা মোবাইল কল। এই কলটা অন্য যেকোন কল থেকে আলাদা।

রফিক সাহেব অনেকদিন থেকে অসুস্থ। অসুস্থতার প্রথম দিকে তাকে দেখতে যেতাম। কিছুদিন আগে অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় উনাকে উত্তরার একটা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। তার এখন অন্তিম সময় চলছে। অনেকটা সেই কারণেই, আমাকে অনেক করে যেতে বললেন ভাবী।

রফিক সাহেব আর আমি একই সাথে বিমানবন্দরের চাকুরীতে জয়েন করি। দুজনেরই তখন তরুণ বয়স। অনেক মজার মজার স্মৃতি আছে তার সাথে। মাসের আয় তত বেশি না হলেও ব্যাচেলর হওয়ার কারণে ভালই চলে যেত আমাদের। অনেকবারই রফিক সাহেবের গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছি। আপনি আপনি করে কথা হলেও আমাদের বন্ধুত্ব ছিল স্কুলের বন্ধুদের মতোই ঘনিষ্ঠ।

রফিক সাহেব বিয়ে করলেন, আমিও। দুইজনের বাসা খুবই কাছাকাছি। দুইজনেরই ছেলে সন্তান হয়েছে। ওরা পড়াশুনা করছে। ওদের জন্য প্রাইভেট টিউটর রাখতে হয়। কম বেতনের চাকরীতে পোষাতে পারছি না। তখনও রফিক সাহেব আমার কাছে আপন ছিল। দুই জনে অফিস শেষে রাস্তায় হাঁটতে যেতাম । বিভিন্ন ধরনের কথা বলতাম। কি করা যায়? এতো অল্প পয়সা দিয়ে তো আর চলা যায় না।

এরপর অনেকটা হঠাৎ করেই রফিক সাহেব বদলে গেলেন। তার সাথে আমার সেই সুন্দর সম্পর্কটাও পাল্টে গেল। আমার কাছের মানুষটি আমার থেকে দুরে সরে গেল। প্রিয় বন্ধুর সাথে আর দেখা হয় না। রফিক সাহেব এখন অনেক ব্যস্ত। চোরাচালানী দলের লোকদের সাথে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন। এতে তার কিছু উপরি ইনকাম হয়। আর আমি আছি আমার আগের অবস্থাতেই। তিনি উত্তরায় বাড়ি কেনেন। ছেলেকে রাজউক কলেজ মোটা বেতনে ভর্তি করান। আর আমি টাকার অভাবে সরকারী কলেজে আমার ছেলেকে পাঠাই। দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াতটা কোনও অংশে কম ছিল না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ করে বিভিন্ন ঈদে তাদের বাসায় পুরো পরিবার নিয়ে যাওয়া হত।

আমার মিসেসকে দিয়ে রফিক সাহেব এর মিসেস কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই টাকা উৎস নিয়ে উনাদের মতামত কি? অবৈধ টাকা ইনকাম করা তো ঠিক না। তার মিসেস যে উত্তর দিলেন তা হল এই রকম - আমার হাজব্যান্ড বিভিন্ন কর্মচারীর রোষ্টারিং এর দায়িত্ব পালন করেন। এই রোষ্টারিং এ কেউ যদি খুশি হয়ে কিছু দেয়, সেই টাকা নেয়াটা দোষের কিছু না। আর আমার হাজব্যান্ড কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করছেন না।

আমার ছেলে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তি কোচিং করতে থাকে আর রফিক সাহেব এর ছেলে কোন কোচিং না করে টো টো করে ঘুরে বেড়ায়। আমি দেখি কিছুই বলি না, বলতে পারি না। ওনাদের টাকা আছে তারা ছেলেকে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করাবেন। আর আমার এত কম টাকা পয়সা যে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি নাম নেওয়াও আমার জন্য অন্যায়।

বিভিন্ন সময় বিপদে আপদে তার থেকে ধার নিয়ে আমি চলতাম। মানুষটি আজ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত । তাকে দুই বার ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছূ হয়নি। তার কাছে যেয়ে তার গত দিনের ভুলের কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেব। আমি রিক্সায় করে যাচ্ছি আর ভাবছি মানুষটির কথা।

রফিক সাহেবের ছেলে শাহীনের সাথে যখনই দেখা হত তখনই দেখতাম সে মাথার এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করছে। অনেকটা জড়তা নিয়ে বলত, আংকেল স্লামালাইকুম। তার বড় চুল আর হাতের ব্রেসলেট দেখে বোঝাই যেত, কতটুকু পেকে গিয়েছে ছেলেটি। একবার দেখলাম তার হাতে অনেক বড় একটি মোবাইল। আমি জিজ্ঞাসা করাতেই বলল, আংকেল এটা আইফোন। আমার ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। কি বলব নিজের ছেলেকে ভর্তি কোচিং এর জন্য ৮ হাজার টাকা দিতেই আমার খবর হয়ে গেছে সেখানে এই ছেলে ব্যবহার করছে অর্ধলক্ষ টাকা দামের মোবাইল!! নিজের ছেলে হলে কিছু বলা যেত, অন্যের ছেলে সহ্য করে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছুই করার নাই আমার।

উত্তরা মেডিক্যালে আমি রিক্সা থেকে নামলাম। কেবিন নাম্বার আগেই জেনে নিয়েছিলাম। চলে গেলাম সোজাসুজি তার কেবিনে। ভাবী আমাকে দেখে জায়গা খালি করে দিলেন। একটা চেয়ার টেনে বসলাম। রফিক সাহেব শুকিয়ে গিয়েছেন। বলা যায়, একবারে শুকনা কাঠ। তার রক্ত নিয়মিত পরিবর্তন করতে হচ্ছে। শাহীন তাই হাসপাতালের বাহিরে। বাবার জন্য রক্ত জোগাড় করছে। বিভিন্ন বিষয় এ তার সাথে কথা বলছি। কথায় কথায় জানতে পারলাম, তার ছেলের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাডমিশন এর ব্যবস্থা করছেন। বিশদিনের মধ্যেই ছেলে চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া। তার কাগজপত্র নিয়ে এত দিন টেনশানেই ছিলেন। আজকে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এই তো বিশ দিন পর চলে যাবে ছেলেটি।

কথা বলার মাঝামাঝি ভাবীর মোবাইলে কল আসল। ভাবী বাইরে চলে গেলেন । আমি রফিক সাহেব এর হাতটা ধরে বসে রইলাম। কত আপন মানুষ আজকে বিদায় এক বারে দ্বারপ্রান্তে। ভাবী ওপাশ থেকে মোবাইলে কান্নায় ভেংগে পড়লেন। আমি দ্রুত বাইরে চলে গেলাম। মোবাইলটি কানে দিয়ে জানতে পারলাম। শাহীনের বয়সী একজনের লাশ রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছেন পুলিশ। তার পকেটে ডাইরী থেকে তারা এই নাম্বারটি পেয়েছে। আমরা কেউ থানায় যেয়ে যেন লাশটি শনাক্ত করি। সম্ভবত ছিনতাইকারীর হাত থেকে দামী মোবাইল বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে ছেলেটি।

দ্রুত থানার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। আবারও রিক্সা নিলাম। যাওয়ার সময় ভাবছি, পুলিশের করা ফোনটি যেন মিথ্যা হয় । আল্লাহ আমি যেন লাশ ঘরে যেয়ে শাহীনকে না দেখি। আমি দেখতে চাই শাহীন বেঁচে আছে। রিক্সায় বসে থাকা আমার দু’চোখ দিয়ে অঝোরে ঝরছে অশ্রু। আমি বলছি আল্লাহ তুমি আমার সহায় হও..............

একটি বাস্তব চিঠি


আর কিছুক্ষণ পরই আমি এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি। নিজ ইচ্ছায়। আমি জানি, আত্নহত্যা কাপুরুষের কাজ। ভেবেছিলাম কখনোই এরকম কাজ আমাকে করতে হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে এই সিদ্ধান্ত নিতে। আমি অসহায়, আমি অযোগ্য এ পৃথিবীর। তাই আমার বিদায় নেয়াই ভালো।

আর সবার মত আমারো তো ইচ্ছে ছিল জীবনে বড় কিছু করবার! মা-বাবা’র মুখ উজ্জ্বল করবার। অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখতাম আমি। আকাশ টা ছুয়ে দেখার স্বপ্ন। কিন্তু আমাকে ঘিরে যে অগনিত মানুষের স্বপ্নসুর, তাদের জন্য কি করেছি আমি? তারা আমার জন্য বুনে গেছে সুরক্ষিত আবাস... আর আমি!

প্রথম যেদিন আমার ছোটভাইটা সিগারেট ধরল, কিছু বলিনি তাকে। কিন্তু কে জানত, সেই ছেলেটিকেই মাদকের নীল আগ্রাসন গ্রাস করে নেবে? হারিয়ে যাবে সে আমাদের মাঝ থেকে? এরকম লাখো মাদকাসক্ত যুবক আছে, একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য আমি কি করেছি?

ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে আমার একমাত্র আদরের ছোটবোন। এরকম সহস্র বোন হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন ভুল চিকিৎসায়, অনাদরে, অবহেলায়, কিংবা যৌতুক প্রথার বলি হয়ে। তাদের জন্যে আমি কী করেছি?

বীর মুক্তিযোদ্ধা করিম আলী। পেটের দায়ে রিকশা চালান! দেশের বীর সন্তানের এই দুর্দশায় আমি কি করেছি? আমি কিছুই করতে পারিনি তার জন্য! তার মত অগনিত মুক্তিযোদ্ধা দুঃখ কষ্টে জর্জরিত হয় দিনানিপাত করছেন। তাদের জন্য কি দু ফোটা চোখের জলও ফেলেছি আমি?

এইতো সেদিন, পেটের দায়ে খাবার চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল দুটি শিশু। তাদের উপর নেমে এল শাস্তির খড়গ! প্রহারে জর্জরিত হল তারা। সেদিনের সেই ভীড়ে আমিও তো ছিলাম! কই, গর্জে ওঠেনি তো আমার কন্ঠ! বলতে পারিনি, এদের কি দোষ? এদের কেন মারছেন? মারতে পারলে মারুন সে সব রাঘব বোয়াল কে, যারা আমাদের আর এদের মাঝে এত ব্যবধান গড়ে তুলেছে। পারলে ভাঙ্গুন সে সমাজ কে, অনৈতিক জেনেও যারা একে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু কই, আমার গলা দিয়ে একটু শব্দও তো বেরোল না!

এরকম হাজার হাজার ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে চারপাশে! আমি কিছু করতে পারছি না। আমার অবস্থাটা আসলে ফার্মের মুরগীর মতন! চাইলেই কিছু করতে পারিনা আমি! চাইলেই কোন কিছু বদলাতে পারি না! জবাবদিহি করতে হয়! সেই সমাজের কাছে, যারা নিজেরাই আত্নস্বীকৃত প্রতারক! কিন্তু এরকম কেন হল? এ তো আমারই ব্যর্থতা। আমরাই তৈরী করেছি এই তথাকথিত সভ্যতা, এর কাছে আজ আমরাই কোণঠাসা!

আমি সব নিয়ম ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছিলাম। প্রথার বেড়াজালে আর নয়! কিন্তু সাথে কাউকে পেলাম না! হয়ত আর সাবাইও আমার মত ভয় পায়! সবারই তো সংসার আছে। প্রিয়জন আছে, তাদের ভবিষ্যত আছে। সবকিছুকে দূরে ঠেলে কেন আসবে তারা এপথে, যেখানে প্রতিনিয়ত মৃত্যু লেখা থাকে! অতঃপর... যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে!

আমার বেছে নেয়া পথটা বোধহয় ঠিক ছিলনা! না হয় ঠিক ছিলনা আমার সময়। আমি যা করেছিলাম, দেশের প্রচলিত আইনে তাকে বলে হত্যাচেষ্টা! গর্হিত অপরাধ! কিন্তু আমার কাছে তা ছিল দিন বদলের সূচনা। আমি বজ্র হয়ে বিদ্ধ করতে চেয়েছিলাম সকল মুখোশধারী শয়তানদের, যাদের আকা বহ্নিশিখার নিচে পুতুলের মত নাচি আমরা সবাই! কিন্তু আমি পারিনি... বিবেকের দংশনে আমি বিক্ষত হয়েছি! আমি তো তাদের মত অমানুষ নই!

আমি পারিনি কারো কোন স্বপ্ন পুরণ করতে... পারিনি সবকিছু ভুলে নিজের জীবন নিয়ে মেতে উঠতে। আমার কোন কিছুর কমতি ছিলনা! কিন্তু এই সব অপূর্ণতা! এটা তো আমারই দেশ! অপুর্ণতাগুলো আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে! আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে আমি কাপুরুষ, আমার কোন ক্ষমতা নেই। আমি কিছুই করতে পারিনা। নাচের পুতুল আমি, যে যেভাবে নাচায় সেভাবেই নাচি... কিন্তু এসব সহ্য করে তো আমি থাকতে পারি না! আমি পারিনা আমার দেশের উপর হায়েনার হিংস্র থাবা পড়তে দিতে। তাই যদি আমি কিছু নাই করতে পারি, তবে আমার চলে যাওয়াই ভালো। অন্তত নিজের চোখে এসব দেখতে তো হবেনা!

যাবার আগে ঘাসের ভেতর খালি পায়ে হাটতে ইচ্ছে করছে। আর ইচ্ছে করছে শিশিরকণা ছুয়ে দেখতে......

মনে হয় আমি উল্টোপাল্টা বলছি। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যে যে মারা যাবে, তার এখন অপ্রকৃতিস্থের মতই আচরণ করার কথা। কিন্তু যে কথা গুলো আমি লিখে যাচ্ছি, তাতে কোন ভুল নেই, কোন মিথ্যা নেই। কাপুরুষের মত নিজের এইসব অক্ষমতা কে সঙ্গী করে চলে যাওয়া যেন অন্য কারো ভাগ্যে না ঘটে, সে জন্যই আমি লিখছি। আমি লিখছি আমাদের মধ্যে অগনিত আলোময় সেই মানুষ গুলোর জন্য, যারা আমার অক্ষমতা কে তাদের শক্তিতে রুপান্তর করতে পারে... যারা পারে এ দেশটাকে পালটে দিতে...

ইতি

(চিঠি তে কোন নাম পাওয়া যায়নি।)

অর্ধাঙ্গ

আজ নারীরা নিঃসন্দেহে শ্লোগান দিতে পারবেন -বাহ্ আমরা পেরেছি , আমরা জয়ী হয়েছি , আমরা দাসত্ব নই , আজ আমরা রাজরাণী । আমরা আজ পুরুষদেরও হার মানিয়েছি । আজ যদি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন থাকতেন , তাহলে তিনি মহা আনন্দে নিশ্চয়ই "অর্ধাঙ্গী" প্রবন্ধ না লিখে আমার মত "অর্ধাঙ্গ" লিখতেন । আজ প্রত্যেক ঘরেই একটি করে ডাক্তার আছেন , যারা রোগীকে যেভাবে মনে চায় সেভাবে বসিয়ে রাখেন এবং কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে তথ্য আদায় করেন । তারা আর কেও নন, বর্তমানের স্ত্রী জাতি। বিশ্বে যত সব সেরা বিজ্ঞানী আছেন তাদের বেশির ভাগই পুরুষ। বিধাতা যা করেন, ভালই করেন। নতুবা যদি বেশির ভাগই মহিলা বিজ্ঞানী হতো তাহলে তারা মঙ্গল গ্রহে বসবাস করে পুরুষদের দাসত্ব বানিয়ে রাখত।

যা হোক, মঙ্গল গ্রহকে বাদই দিলাম। নিজের ঘরের কথা ভাবা যাক, শত শ্রম ও কষ্টের বিনিময়ে কিছু যোগাড় করে , না খেয়ে ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায় প্রত্যেক পিতা-মাতাই । শৈশবকালে সবচেয়ে কাছের ভালো বন্ধু হিসাবে থাকে আপন ভাই বোনেরা কিন্তু একদিন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেই মা-বাবা , ভাই-বোনদেরকে ভূলে সুখের সংসার গড়ে সেই নারীকে নিয়ে । তাই কবিরাও বলে গিয়েছেন-

                                                  " ভাই বড় ধন , রক্তের বাধন
                                                  যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ । "


যা হোক , আমি সকল নারীদেরকে খারাপ বলতে চাই না । যেখানে ভাল আছে সেখানে খারাপ থাকবেই , এটা প্রকৃতির নিয়ম । আজ পর্যন্ত অনেক বইতে পরেছি-নারীরা দাসত্ব । কিন্ত আজ কি তা আছে ?
নেই , তারা আজ পুরুষদের দাসত্ব বানিয়েছে । তারা আজ পুরুষদের হুকুম করতেও জানে । নারীরা অলৌকিকভাবে কত বড় হয়েছে তা আপনি পরীক্ষা করতে পারেন । একটি নারীকে ফিতা দিয়ে মেপে
তার চেয়ে বড় একটি পুরুষ একটু দূরে অপর প্রান্তে রেখে আরেকটু দূরে আপনি গিয়ে দেখুন পুরুষটির চেয়ে নারীটিকেই বড় দেখাচ্ছে ।


আজ বিভিন্ন শপিং মলে ঢুকলেই দেখা যায় শুধু নারী আর নারী , তখনই মনে হয় শপিং মল গুলো বোধহয় নারীদের জন্যই বিধাতা সৃষ্টি করেছেন । আর যদিও বহু কষ্টে সেই শপিং মলে পুরুষদের প্রবেশ
করতে হয় তারপরও দেখা যায় নারীদের শাসন । তারা পুরুষদের ধাক্কাতে ধাক্কাতেই প্রমাণ করে পুরুষরা আসলেই নারীদের দাসত্ব ।


এবার রাস্তাঘাটে আসা যাক । একবার একটি কৌতুক পড়েছিলাম যে , " এক ব্যক্তি বিদেশে চাকরী করতে গিয়ে যখন রাস্তায় দেখলেন বিদেশীদের শর্ট পোষাক গুলো , তখনই তিনি বললেন , এদেশ দেখছি
আমার দেশের চেয়েও গরীব , তাদের পোষাকেরই অভাব। আর সেই সামান্য শর্ট পোশাক গুলোই আমাদের দেশের নারীদের পরতে দেখা যায় । তারা চুল ছেড়ে বিউটি পার্লারে সাজগোজ করে রাস্তায় সুবাস ছড়াতে ছড়াতে যায় । কিন্তু যখনই একজন পুরুষ তা দেখে তখনই দোষ হয় সেই পুরুষের । এবার আপনিই বলুন , এটা কী পুরুষের দোষ ? কারণ ফুল দেখলেই মৌমাছি মধু সংগ্রহ করার জন্য আসতেই পারে এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই । যদি ফুল কুয়াশা দ্বারা আচ্ছাদিত থাকত তাহলে মৌমাছি সেখানে আসত না ।

আজ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় , চাকুরীতে পুরুষ যদি ১ ঘণ্টা পরে আসে তাহলে তাকে কৈফিয়ত দিতে হয় ২ ঘণ্টা । আর যখন নারী ২ ঘণ্টা দেরীতে চাকুরীতে আসে তখন কৈফিয়তের সময় বলেন- বস , রাস্তায় খুব জ্যাম ছিল । ব্যাস , নারীরা মিষ্টি কণ্ঠে কথাটা শুনেই বস শান্ত হয়ে বসে থাকেন । এতেই পুরুষদের ব্যর্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

একটু অবগতির জন্য জানিয়ে রাখছি যে, আজ পর্যন্ত যত বিউটি পার্লার দেখা গিয়েছে তার নিচে লেখা আছে, শুধু মাত্র মহিলাদের জন্য। এতে পুরুষরা বঞ্ছিত হছে। তারা আজ প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছে।

পুরুষদের দাসত্তের কথা অনেক বলেছি। তবে যদি পুরুষ হয়ে বাঁচতে চান, তাহলে সেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এর মত হন। মীর জাফর'র মত নয়।

লেখক-
আমার এলাকার বড় ভাই
মোঃ জামাল উদ্দীন
যখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়েন।
(এখানে হুবাহু লেখা হয়েছে)