expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>
চলছে । চলবে । অবিরাম...

অর্ধাঙ্গ

আজ নারীরা নিঃসন্দেহে শ্লোগান দিতে পারবেন -বাহ্ আমরা পেরেছি , আমরা জয়ী হয়েছি , আমরা দাসত্ব নই , আজ আমরা রাজরাণী । আমরা আজ পুরুষদেরও হার মানিয়েছি । আজ যদি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন থাকতেন , তাহলে তিনি মহা আনন্দে নিশ্চয়ই "অর্ধাঙ্গী" প্রবন্ধ না লিখে আমার মত "অর্ধাঙ্গ" লিখতেন । আজ প্রত্যেক ঘরেই একটি করে ডাক্তার আছেন , যারা রোগীকে যেভাবে মনে চায় সেভাবে বসিয়ে রাখেন এবং কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে তথ্য আদায় করেন । তারা আর কেও নন, বর্তমানের স্ত্রী জাতি। বিশ্বে যত সব সেরা বিজ্ঞানী আছেন তাদের বেশির ভাগই পুরুষ। বিধাতা যা করেন, ভালই করেন। নতুবা যদি বেশির ভাগই মহিলা বিজ্ঞানী হতো তাহলে তারা মঙ্গল গ্রহে বসবাস করে পুরুষদের দাসত্ব বানিয়ে রাখত।

যা হোক, মঙ্গল গ্রহকে বাদই দিলাম। নিজের ঘরের কথা ভাবা যাক, শত শ্রম ও কষ্টের বিনিময়ে কিছু যোগাড় করে , না খেয়ে ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায় প্রত্যেক পিতা-মাতাই । শৈশবকালে সবচেয়ে কাছের ভালো বন্ধু হিসাবে থাকে আপন ভাই বোনেরা কিন্তু একদিন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেই মা-বাবা , ভাই-বোনদেরকে ভূলে সুখের সংসার গড়ে সেই নারীকে নিয়ে । তাই কবিরাও বলে গিয়েছেন-

                                                  " ভাই বড় ধন , রক্তের বাধন
                                                  যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ । "


যা হোক , আমি সকল নারীদেরকে খারাপ বলতে চাই না । যেখানে ভাল আছে সেখানে খারাপ থাকবেই , এটা প্রকৃতির নিয়ম । আজ পর্যন্ত অনেক বইতে পরেছি-নারীরা দাসত্ব । কিন্ত আজ কি তা আছে ?
নেই , তারা আজ পুরুষদের দাসত্ব বানিয়েছে । তারা আজ পুরুষদের হুকুম করতেও জানে । নারীরা অলৌকিকভাবে কত বড় হয়েছে তা আপনি পরীক্ষা করতে পারেন । একটি নারীকে ফিতা দিয়ে মেপে
তার চেয়ে বড় একটি পুরুষ একটু দূরে অপর প্রান্তে রেখে আরেকটু দূরে আপনি গিয়ে দেখুন পুরুষটির চেয়ে নারীটিকেই বড় দেখাচ্ছে ।


আজ বিভিন্ন শপিং মলে ঢুকলেই দেখা যায় শুধু নারী আর নারী , তখনই মনে হয় শপিং মল গুলো বোধহয় নারীদের জন্যই বিধাতা সৃষ্টি করেছেন । আর যদিও বহু কষ্টে সেই শপিং মলে পুরুষদের প্রবেশ
করতে হয় তারপরও দেখা যায় নারীদের শাসন । তারা পুরুষদের ধাক্কাতে ধাক্কাতেই প্রমাণ করে পুরুষরা আসলেই নারীদের দাসত্ব ।


এবার রাস্তাঘাটে আসা যাক । একবার একটি কৌতুক পড়েছিলাম যে , " এক ব্যক্তি বিদেশে চাকরী করতে গিয়ে যখন রাস্তায় দেখলেন বিদেশীদের শর্ট পোষাক গুলো , তখনই তিনি বললেন , এদেশ দেখছি
আমার দেশের চেয়েও গরীব , তাদের পোষাকেরই অভাব। আর সেই সামান্য শর্ট পোশাক গুলোই আমাদের দেশের নারীদের পরতে দেখা যায় । তারা চুল ছেড়ে বিউটি পার্লারে সাজগোজ করে রাস্তায় সুবাস ছড়াতে ছড়াতে যায় । কিন্তু যখনই একজন পুরুষ তা দেখে তখনই দোষ হয় সেই পুরুষের । এবার আপনিই বলুন , এটা কী পুরুষের দোষ ? কারণ ফুল দেখলেই মৌমাছি মধু সংগ্রহ করার জন্য আসতেই পারে এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই । যদি ফুল কুয়াশা দ্বারা আচ্ছাদিত থাকত তাহলে মৌমাছি সেখানে আসত না ।

আজ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় , চাকুরীতে পুরুষ যদি ১ ঘণ্টা পরে আসে তাহলে তাকে কৈফিয়ত দিতে হয় ২ ঘণ্টা । আর যখন নারী ২ ঘণ্টা দেরীতে চাকুরীতে আসে তখন কৈফিয়তের সময় বলেন- বস , রাস্তায় খুব জ্যাম ছিল । ব্যাস , নারীরা মিষ্টি কণ্ঠে কথাটা শুনেই বস শান্ত হয়ে বসে থাকেন । এতেই পুরুষদের ব্যর্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

একটু অবগতির জন্য জানিয়ে রাখছি যে, আজ পর্যন্ত যত বিউটি পার্লার দেখা গিয়েছে তার নিচে লেখা আছে, শুধু মাত্র মহিলাদের জন্য। এতে পুরুষরা বঞ্ছিত হছে। তারা আজ প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছে।

পুরুষদের দাসত্তের কথা অনেক বলেছি। তবে যদি পুরুষ হয়ে বাঁচতে চান, তাহলে সেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এর মত হন। মীর জাফর'র মত নয়।

লেখক-
আমার এলাকার বড় ভাই
মোঃ জামাল উদ্দীন
যখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়েন।
(এখানে হুবাহু লেখা হয়েছে)


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন